মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের মণিরামপুর উপজেলার একটি মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সাথে ওয়ার্ল্ড চ্যাট নামের একটি ফ্রি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৪২ বছর বয়সী চীনা নাগরিক প্রকৌশলী ইউ লিয়াংলিয়াংয়ের আলাপচারিতা। তিন মাসের পরিচয়ে তাদের মধ্যে প্রথমে বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্ব এক পর্যায়ে প্রেমে রূপ নেয়। সেই প্রেমের টানে দেশ ছেড়ে রোববার সকালে মণিরামপুর উপজেলার হুরগাতী গ্রামে ছুটে এসেছেন চীনা নাগরিক ইউ লিয়াংলিয়াং। তিনি চীনের একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর চাকরি করেন। আকস্মিক চীনা নাগরিক বাড়িতে আসায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন মেয়েটির পরিবার। তার ওপর আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর বিরূপ মন্তব্যে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে কাটছে মেয়েটির পরিবারের। মেয়েটির পিতা এলাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। দুই ভাই বোনের মধ্যে মেয়েটি বড়। ইউ লিয়াংলিয়াং জানান, তার জন্মস্থান চীনের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চল পীত সাগর ও রোহাই সাগরের তীরে অবস্থিত শানডং প্রদেশে। দুই ভাইয়ের মধ্যে ইউ লিয়াংলিয়াং বড়। তার পিতার নাম ইউ সংউই এবং মায়ের নাম কিউই জুয়েজুয়ান। ইউ লিয়াংলিয়াং-এর ব্যবহৃত পাসপোর্ট ও তার সাথে ভাষাগত এ্যাপস-এর মাধ্যমে কথা বলে এসব চিত্র জানাগেছে। তিনি বিশ দিনের জন্য বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। এখানে কেউ পরিচিত না থাকায় সরাসরি হুরগাতী গ্রামে ওই মেয়ের বাড়িতে আসেন। তবে বন্ধুত্বের টানে আসলেও মেয়েটির পরিবারের সম্মতি পেলে তিনি মেয়েটিকে মেয়ের ধর্মীয় নিয়মেই বিয়ে করার বাসনা জানান। কিন্তু মেয়েটির বয়স কম হওয়ায় হতাশ হন ইউ লিয়াংলিয়াং। বন্ধুত্বের টানে ওই চীনা যুবক তার বাড়িতে এসেছেন বলে মেয়েটির দাবি। অপরদিকে মেয়েটির মা ও দাদি জানান, ভিন্ন ধর্মের ৪২ বছর বয়সী ওই চীনা যুবকের সাথে তাদের মেয়েকে বিয়ে দিবেন না। এ দিকে হুরগাতী গ্রামে চীনা ওই নাগরিককে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় হচ্ছে। তবে রোববার রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময় চীনা নাগরিকের সাথে বিয়ে দিতে মেয়েটির পরিবার অসম্মতি জানালে ইউ লিয়াংলিয়াং সেখান থেকে বিষন্ন মন নিয়ে ফিরে গেছেন ঢাকার উদ্দেশ্যে।