নিজস্ব প্রতিবেদক : আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে চাঁদাদাবির অভিযোগে সাবেক স্ত্রী মৌসুমী আক্তার মৌ এর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি আইনে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার তার সাবেক স্বামী ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুর থানার মোহনপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসিকে। আসামি মৌসুমি আক্তার মৌ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘুমারু ভীমশীতলা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ মার্চ রবিউল ইসলাম ও মৌসুমীর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্যের জেরে মাত্র কয়েকদিন পর ১৭ মার্চ তাদের খোলা তালাক সম্পন্ন হয়। এ সময় দেনমোহর ও খোরপোষের টাকা বুঝে দেয়া হয় মৌসুমী আক্তার মৌকে। বিয়ের পর সংসার চলাকালে আসামি তার সঙ্গে মেলামেশার ভিডিও, স্থিরচিত্র ও বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি গোপনে ধারণ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে এসব ছবি ও ভিডিও আসামির ব্যবহৃত একাধিক ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রবিউল ইসলামের পিতা অসুস্থ হয়ে গত ৪ আগস্ট যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে অবস্থানকালে রবিউল ইসলাম ফেসবুকে নিজের আপত্তিকর ছবি দেখতে পান। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আসামির সঙ্গে যোগাযোগ করে ছবি ও ভিডিও অপসারণের অনুরোধ করেন। এ সময় আসামি তার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামি মৌ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে আরও ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। এতে রবিউল ও তার পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ফোন করে বিষয়টি জানাতে থাকায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।