নিজস্ব প্রতিবেদক: বেনাপোল স্থলবন্দরে বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে যশোর সদরের জিরাট গ্রামের গৃহবধূ আদুরী ও তার শিশুকন্যাকে অপহরণ, গুম ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বুধবার সদর উপজেলার সিরাজসিঙ্গা গ্রামের বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন। আসামিরা হলো অপহৃত আদুরী খাতুনের স্বামী সজিব হোসেন (২২), চাচাতো ভাসুর নয়ন মোল্লা (২৩), চাচাশ্বশুর জামির মোল্লা (৪৫), শাশুড়ি মেঘলা খাতুন (৪৫) ও চাচিশাশুড়ি হাফিজা খাতুন (৪৫)। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর বাদী বিল্লাল হোসেনের পারিবারিকভাবে আদুরী খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মুনতাহা খাতুন নামে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে আদুরীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং গুমের হুমকি দিয়ে আসছিল আসামিরা। গত ২৬ জুলাই সকালে আদুরী খাতুন ও তার শিশুকন্যা মুনতাহা খাতুনকে বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকায় বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে আসামিরা বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সন্ধ্যায় আদুরী ও মুনতাহার খোঁজে আসামিদের বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। এ সময় আদুরী ও মুনতাহার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে আসামিরা পরস্পরবিরোধী কথাবার্তা বলে। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মা-মেয়ের সন্ধান না পেয়ে গত ১৫ আগস্ট বিকেলে বাদী, স্বজন ও সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আসামিদের বাড়িতে যান। সেখানে আদুরী খাতুন ও শিশু মুনতাহা খাতুনের সন্ধান চাইলে আসামিরা তাদের উদ্ধারের জন্য তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ?টাকা না দিলে আদুরী ও মুনতাহার কোনো সন্ধান দেওয়া হবে না এবং তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে এ মামলা করেন।