Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

কলকাতার অগ্নিকাণ্ড: দেবাশীষসহ ৫ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে

এখন সময়: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ০৬:০২:৫৫ পিএম

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় মরদেহগুলো পৌঁছায়। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ, ইমিগ্রেশন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাংলাদেশি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

নিহত পাঁচজন হলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবু।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় স্বজনদের কান্না-আহাজারিতে বেনাপোল সীমান্তের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়। এর মধ্যে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজনের মরদেহ এবং অপরটিতে আহমেদ বাবুর মরদেহ নেওয়া হয়। এর আগে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কলকাতার পিচ ওয়ার্ড হিমাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হয়। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুক্রবার রাতেই সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে জানান দেবাশীষের পরিবারের মরদেহ শনাক্তকারী ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তাঁর ভায়রা ফিরোজ। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। চলতি মাসের ৩ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। কয়েক দিন পর সেখানে যান তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না-কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরলেন তাঁরা। বেনাপোল সীমান্তে নিহত দেবাশীষ দত্তের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর ছেলে স্বর্ণশীষের সৎকার এবং আফসানা শারমীন ও আকরাম হোসেনের মরদেহ মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। শনিবার রাত ৯টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আফসানা শারমীন ও আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে। দাফনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত। তবে মরদেহ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর সময়ের ওপর দাফনের সময়সূচি নির্ভর করছে। কলকাতার ওই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরার দৃশ্য বেনাপোল সীমান্তে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। চিকিৎসার আশায় ভারতে যাওয়া একটি পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ পরিণতিতে স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)