নূরুল হক, মণিরামপুর:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল হরিদাসকাটি ইউনিয়নের নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনপাশে থৈ থৈ করছে জলাবদ্ধতা আর কচুরিপানা, ঘরের ভেতরে ঢুকছে বর্ষার পানি। মাঝেমধ্যে দেখা মিলছে সাপেরও। এমন চরম বেহাল দশা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলছে পাঁচ গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে হাজিরহাট-নেহালপুর সড়কের পূর্বপাশে মাত্র ৫ শতক জমির ওপর ক্লিনিকটি নির্মিত হয়। বর্তমানে এটি পাঁচকাটিয়া, ভুলবাড়ীয়া, নেবুগাতি, কুচালীয়া ও দিগঙ্গা—এই পাঁচ গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষের একমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র। তবে অভিযোগ উঠেছে, বছরের পর বছর সংস্কার না করায় দুই কক্ষের এই ভবনের দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, এমনকি কলাম, বিম ও ছাদে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা দিগঙ্গা গ্রামের অভিজিৎ মন্ডল জানান, "দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ক্লিনিকটি ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এই বর্ষায় ক্লিনিকের ভেতরে পানি উঠে গেছে, সেবা নিতে এসে বেশ কষ্ট পেতে হচ্ছে।" একই গ্রামের লক্ষি রানী মন্ডল নামে অপর এক গৃহবধূ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভাঙাচোরা ভবনের ভেতরে বসার মতো কোনো জায়গা নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একমাত্র বাথরুমটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে নারী রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।" বর্তমানে ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিঠুন বিশ্বাস সপ্তাহে ৬ দিন নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পরিবার কল্যাণ সহকারী (এফডাব্লিউএ) তুলি রায় এবং স্বাস্থ্য সহকারী (এইচএ) হাবিবুর রহমান নির্ধারিত দিনগুলোতে সেবা দিচ্ছেন।
সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস জানান, "ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হলেই কক্ষে পানি জমে যায়। এমনকি বিষাক্ত সাপ ও পোকামাকড় ঘরে ঢুকে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে নিজের ও রোগীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন সেবা দিতে হচ্ছে।" ক্লিনিকটি দ্রুত সংস্কারের জন্য তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ হোসেন ফয়সাল বলেন, নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটির বেহাল দশা ও সংস্কারের বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেন আশ্বস্ত করে জানান, সাধারণ মানুষের নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।