নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকোলা গ্রামের গোলাপীর বাড়ির ডাকাতির মামলা সিআইডি পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে যশোরের আদালত। সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক আড়াইটায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল লোক দোহাকুলা গ্রামের গোলাপী খাতুনের বাড়িতে চড়াও হয়। দরজা ভাঙার শব্দে গোলাপী ও তার মেয়ে ঘুম থেকে উঠে বাইরের লাইট জ্বালিয়ে ডাকাত-ডাকাত চিৎকার করে বাথরুমে পালায়। এরমধ্যে হামলাকারীরা টিনের বেড়া কেটে ঘরে ঢুকে গোলাপী ও তার মেয়ে রিমিকে বের করে উঠানে ফেলে বেদম মারপিট করে। গুরুতর আহত গোলাপীর মাথা কেটে যায় এবং বাম হাতের দুটি হাড় ভেঙে যায়। এরপর হামলাকারীরা দোকানের ভিতর ঘুমিয়ে থাকা গোলাপীর পিতা নুরুল ইসলামকেও মারপিট করে গুরুতর জখম করে। আহতদের প্রথমে বাঘারপাড়া ও পরে গোলাপী খাতুনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে হামলাকারীরা ঘর নির্মাণের জন্য রাখা নগদ ২ লাখ টাকা, দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে ১ লাখ ৩৩৮ টাকা, স্বর্ণালংকার, দোকানের মালামাল, টিনের চাল ও বেড়াসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে গোলাপী খাতুন এ ঘটনায় বাঘারপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ না করায় তিনি ২০ এপ্রিল আদালতে মামলা করেন। আদালতের আদেশে অভিযোগটি ১ মে বাঘারপাড়া থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু হয়। আসামিরা হলো-কামরুল, আজিজুর, তৌহিদ, তারেক, ফরিদ, টুটুল, সুমন, নাঈম, হারুন, তৈমুর, রাসেল, ইমামুল, মুন্না, সোহাগ ও মিঠুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন। এ মামলা তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই প্রসেনজিৎ কুমার মন্ডল এজাহারভুক্ত সকল আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেন। মামলার বাদী গোলাপী বেগম তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানি শেষে আদালত সিআইডি পুলিশকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।