Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

হরিণাকুণ্ডুতে ধসে পড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ, দুই বছরেও হয়নি সংস্কার

এখন সময়: শনিবার, ১০ অক্টোবর , ২০২৬, ০২:৫৯:১১ পিএম
হরিণাকুণ্ডুতে ধসে পড়া সড়ক এখন মরণফাঁদ, দুই বছরেও হয়নি সংস্কার

খাইরুল ইসলাম নিরব, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে নির্মাণের ৬ মাসের মাথায় ধসে পড়া সড়ক দুই বছরেও সংস্কার হয়নি। খাল পাড় ঘেঁষে নির্মিত ধসে পড়া সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার মকিমপুরে খাল খননের ফলে ধসে পড়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হয়নি সড়ক সংস্কার। ফলে সড়কে যাতায়াতের সময় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন অন্তত আটটি গ্রামের মানুষ। সরেজমিনে দেখা গেছে, হরিণাকুন্ডু উপজেলার মকিমপুর গ্রামের খালপাড়ে নির্মিত সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ঝিনুকমালা আবাসন সংলগ্ন এলাকা থেকে মকিমপুর অভিমুখী সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও সড়কের পুরো অংশ ধসে পড়েছে খালের ভেতরে। সড়কের পিচ কার্পেটিংসহ ম্যাগাডাম ধসে পড়েছে খালে। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ এখন অস্তিত্বহীন। ভাঙা সড়ক দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় এলাকার বাসিন্দাদের। জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সড়কটি নির্মাণ করে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। ওই একই অর্থবছর ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ড সড়কের পার্শ্ববর্তী ডি. সেভেন. এন নামের খাল খনন শুরু করে। খাল খননের সময় সড়কের পূর্বপাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা। ফলে নির্মাণের ৬ মাসের মাথায় খালের ভেতরে ধসে পড়ে সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ। এতে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর, ফলসি ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ধসে পড়ার পরে প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি যথাযথ কর্তৃপক্ষ। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জানানো হলেও নেয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। মকিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শফি উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সড়কটি। নির্মাণের ৬ মাস পরেই খাল খনন ও বালু উত্তোলনের ফলে সড়কটি ধসে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড খাল খনন করাকালে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে। যে কারণে খালের পাড় ঘেঁষে নির্মিত সড়কটি ধসে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ডাবলু মিয়া বলেন, অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ এই সড়ক দিয়ে খুব সহজে অল্প সময়ে ঝিনাইদহ শহরে যেতে পারত। ধসে পড়ার পরে সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি মোটরসাইকেল-বাইসাইকেল চলাচল করতে গিয়েও ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। ধসে পড়া সড়ক এখন আমাদের কাছে যেন ‘মরণফাঁদ’। এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. রুহুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালে মকিমপুর খাল পাড় ঘেঁষে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সড়ক নির্মাণের ৬ মাস পরেই খাল থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিতভাবে খননকাজ চালায়। এরপর তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা খাল থেকে বালু উত্তোলন করে। ওই সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বালু উত্তোলন বন্ধের ব্যাপারে বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। ফলে সড়কের দেড় কিলোমিটার অংশ ধসে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন সড়ক নির্মাণের পরে ৪ বছর পর্যন্ত ওই সড়কে সংস্কারকাজ করার কোনো সুযোগ আমাদের থাকে না। তারপরও জরুরি বিবেচনায় সড়কটি সংস্কারে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে এরই মধ্যে আমরা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, তৎকালীন সময়ে ডি.সেভেন.এন খাল খননে অনিয়ম ও বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছিল। এর ফলে সড়কটি ধসে গেছে। ধসে যাওয়া দেড় কিলোমিটার সড়ক সংলগ্ন খাল পাড় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হবে। উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করে যাচ্ছি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)