বাঘারপাড়া প্রতিনিধি : আর ছোট ভাইকে কোনো দিন চুমু দেওয়া হবে না ১১ বছরের রাবেয়ার। খেলা হবে না সমবয়সীদের সঙ্গে, মসজিদে গিয়ে ইফতারিও করা হবে না। মাত্র ১১ বছর বয়সেই মরণব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে ছোট্ট মেয়ে রাবেয়া। রোববার সকালে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাবেয়া উপজেলার ৬০ খালি গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর বিশ্বাস ও শারমিন বেগম দম্পতির একমাত্র মেয়ে। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মৃত্যুর আগে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাবেয়ার শেষ সময়ের কথাগুলো যেন এখনো কানে বাজছে স্বজনদের। সকালে সে কাকুকে বলেছিল, কাকু, ফ্রিজে ব্লাড রাখা আছে, এনে আমাকে বাঁচাও। বাঁচার আকুতি নিয়ে বলা এই কথাই এখন বাবা-মায়ের কাছে হয়ে উঠেছে জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি। স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিল রাবেয়া। অসুস্থতার মধ্যেও তার প্রাণচাঞ্চল্যে কোনো কমতি ছিল না। গ্রামের সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে লেখাপড়া, খেলাধুলা আর হাসি-আনন্দে মাতিয়ে রাখত সবাইকে। তার সরলতা ও মিষ্টি ব্যবহারে অল্প সময়েই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিল সে। গত রমজানেও রাবেয়া সবগুলো রোজা রেখেছিল। নিয়মিত মসজিদে গিয়ে ইফতার করত। অসুস্থ শরীর নিয়েও ধর্মীয় অনুশাসন পালনের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, রাবেয়ার ছোট্ট ছোট্ট এসব স্মৃতিই এখন তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।মেয়েকে হারিয়ে বাবা আলমগীর বিশ্বাস ও মা শারমিন বেগমের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। একমাত্র মেয়েকে হারানোর শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। স্বজনদের কান্নায় বারবার ফিরে আসছে রাবেয়ার হাসিমুখ, তার কথা ও ছোট ভাইয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্মৃতি।রাবেয়ার শেষ বিদায়ের দৃশ্যও ছিল হৃদয়বিদারক। মৃত্যুর আগে ছোট ভাইকে দেওয়া শেষ চুমুর স্মৃতি এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতি হয়ে থাকবে। যে শিশুটি কিছুদিন আগেও ভাইকে জড়িয়ে ধরে আদর করত, সেই রাবেয়াই আজ চিরতরে চলে গেছে না ফেরার দেশে। রাবেয়ার মৃত্যুতে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একটি ছোট্ট জীবনের এত দ্রুত অবসান যেন প্রশ্ন রেখে গেল যে বয়সে একটি শিশুর বই-খাতা, খেলাধুলা আর স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই মরণব্যাধির কাছে হার মানতে হলো রাবেয়াকে। রাবেয়া নেই। আছে শুধু তার হাসিমাখা মুখ, ভাইকে দেওয়া শেষ চুমু আর মৃত্যুর আগে বাঁচার আকুতি—কাকু, আমাকে বাঁচাও। আজ আসর নামাজ বাদ রাবেয়ার পারিবারিক কবর স্থানে দাফন কাজ শেষ করা হবে।