নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে কাজ করছে। দীর্ঘ দিন পর জনগণ ভোট দিয়ে এই সরকারকে নির্বাচিত করেছে। অতীতে জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে অসাধু কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের মেলবন্ধনে তাদের অর্থ লোপাট হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময় জনগণের অর্থ নয় ছয় করার সুযোগ নেই। জনগণের প্রাপ্য জনগণকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কোন ব্যক্তি বিশেষ নয়, সমগ্র জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। শুক্রবার সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে যশোর - ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীদের জন্য ফ্যান, হুইল, ট্রলি,পল্লী উদ্যোক্তা ঋণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার সামগ্রী, কৃষি উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রক্রিয়াজাতকরণ সরঞ্জামাদিক, নগদ অর্থ সহায়তা ও শুকনা খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ রোপণ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ যশোর আয়োজিত সপ্তাহ ব্যাপী বৃক্ষ মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং মেলার শ্রেষ্ঠ স্টল ও উদ্যোক্তদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করেন। সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি কখনো উন্নয়নে বৈষম্য করে না। উন্নয়নের জন্য হিন্দু মুসলিমের মধ্য পার্থক্য কিংবা ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বিশ্বাস বিবেচনা করে না। আমার যখন অনুদান দেবার সময় এসেছে। দুটি অনুদানের মধ্যে একটি কারবালা করব স্থানে এবং আরেকটি নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে দিয়েছি। অতীতে কার্ড পাওয়ার জন্য প্রভাবশালীদের কাছে ধরণা দিতে হতো। প্রধানমন্ত্রী এই সংস্কৃতি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, পারিবারিক কার্ড সকলের জন্য নিশ্চিত করতে চান। এখানে রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় বিশ্বাস বিবেচনায় নিয়ে কেউ কার্ড পাবে আর কেউ পাবে না এমনটি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। প্রকৃত ব্যক্তিরা কার্ড পাবেন। আমরা রাজনীতি করি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে। রাজনীতি করতে এসে নয় ছয় করবো, মিথ্যাচার করে ভোট নিয়ে আপনাদের (জনগণ) আমনতের খেয়ানত করবো এটা বিএনপির রাজনীতি নয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের সুফল ভোট করতে মাদক সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার মাদক সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এই যশোরকে মাদক এবং সন্ত্রাস মুক্ত করতে রাজনৈকিত কিংবা সামাজিক শক্তি যত প্রভাবশালী হোক কেন? সেটি আমার নিজ দলের কেউ হলেও কোন আপষ করা হবে না। মাদক সন্ত্রাস নির্মুল করতে গিয়ে প্রশাসনের যে সকল কর্তা ব্যক্তিরা ব্যর্থ হবেন, আপনাদের নতুন ঠিকানা খুঁজে নিতে হবে। প্রতিমন্ত্রী যশোর সদর উপজেলার প্রতিটি স্কুল এবং কলেজে পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার ল্যাব আধুনিকায়ন এবং লাইব্রেরিতে নতুন বই সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত অর্থসহায়তা করার ঘোষণা দেন। সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রতিমন্ত্রী যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ১০০ ফ্যান, ১০ টি করে ট্রলি ও হুইল চেয়ার, প্রতিবন্ধী কেন্দ্রে ১০ টি হুইল চেয়ার, ৮ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবের আধুনিকায়নের জন্য ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিনসহ ডিজিটাল ডিভাইস, ১৭৫ জনের মাঝে নগদ ৪ হাজার টাকা, ১০ জনের মাঝে গৃহ নির্মাণের চেক, ৫০ জন দরিদ্র ব্যক্তির মাঝে খাদ্য সামগ্রী, তিন জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মাঝে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্র ঋণ, ৬ জনের মাঝে কৃষি উদ্যোক্তার মাঝে প্রক্রিয়াজাত করন সরঞ্জামাদি প্রদান করেন।