নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী জেসমিন আক্তার পিংকি হত্যা মামলায় প্রেমিক আহসান কবির অঙ্কুরকে অভিযুক্ত করে আদালতে পুনঃ চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ না পাওয়ায় এ মামলার অপর তিন আসামি অঙ্কুরের পিতা আকবর আলী, মা হোসনেয়ারা ও ভাই রুমেলের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক সুব্রত কুমার পাল। অভিযুক্ত অঙ্কুর শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ও যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জেসমিন আক্তার পিংকি যশোর থেকে বাড়ি যাবে বলে ফোনে মাকে জানিয়েছিল। ওই দিন পিংকি বাড়ি ফেরেনি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজি করে পিংকিকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে তার পিতা জাকির হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি শার্শার বুরুজবাগান গ্রামের আকবর আলীর বাড়ির পেছনের একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে পিংকির লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সংবাদ পেয়ে নিখোঁজ পিংকির স্বজনেরা আকবর আলীর বাড়ি এসে লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহত পিংকির ভাই আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে শার্শা থানায় মামলা করেন। আসামিরা হলো, আকবর আলী ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা এবং দুই ছেলে অঙ্কুর ও রুমেল। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্ত করে নিহত পিংকির প্রেমিক আহসান কবির অঙ্কুরকে অভিযুক্ত ও অপর তিন আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ মামলার চার্জশিটের ওপর আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী ও নিহতের ভাই আনিছুর রহমান। শুনানির শেষে বিচারক নারাজি মঞ্জুর করে সিআইডি পুলিশকে পুনঃতদন্তের আদেশ দেন। সিআইডির তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজন যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একই সেমিস্টারে লেখাপড়া করত। কলেজে ভর্তির পর থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি উভয় পরিবার জানত এবং বিয়ের কথাবার্তাও পাকা ছিল। জেসমিন যশোর শহরের বারান্দীপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকত। মাঝেমধ্যে বাসায় গিয়ে অঙ্কুর তাকে পেত না। অন্য ছেলেদের সাথে প্রেম করে বেড়াত পিংকি। বিষয়টি জানার পর তাকে নিষেধ করলেও সে শুনত না এবং মিথ্যা কথা বলত। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। ২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে জেসমিন যশোর থেকে সাতক্ষীরার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়। দুপুরে অঙ্কুরের শার্শার গ্রামের বাড়ি গিয়ে দেখা করে পিংকি। অঙ্কুর তখন পিংকিকে তাদের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বেধে যায়। অঙ্কুর তখন পিংকির গলা চেপে ধরে এবং গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকের ভিতর ফেলে দেয়। পিংকির ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি অঙ্কুর তার বাসায় নিয়ে রাখে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে নিহত পিংকির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং অঙ্কুর ও তার মা-ভাইকে আটক করা হয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হত্যার সাথে জড়িত থাকায় আহসান কবির অঙ্কুরকে অভিযুক্ত করে পুনঃ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী।