মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : মণিরামপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কাকুড়িয়া বিলে অপরিকল্পিত ঘের ও ভেড়ি নির্মাণের ফলে সঠিকভাবে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা। তাছাড়া বিলের পানি বের হবার একমাত্র খালটির উভয় পাশের ৩ কিলোমিটার জমি দখল হয়ে যাওয়ায় খাল সংকুচিত হয়ে পড়ায় পানি বের হতে পারছেনা। ফলে কাকুড়িয়া বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানিয়ে এলাকার ভূক্তভোগী কৃষকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক ও ইউএনও সম্রাট হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। জানাযায়, উপজেলার সদর, কাশিমনগর ও ভোজগাতি ইউনিয়ন সংলগ্ন কাকুড়িয়া বিলে অপরিকল্পিত যত্রতত্রভাবে প্রায় শতাধিক মৎস্য ঘের ও ভেড়ি নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর অভিযোগ রয়েছে এ বিল থেকে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটির উভয়পাশের প্রায় ৩ কিলোমিটার জমি দখল করায় খাল সরু হয়ে পড়েছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কাকুড়িয়া বিলে ৩টি ইউনিয়নের ১৫ টি গ্রামের কৃষকরা এ বিলে চাষাবাদ করে থাকেন। ফলে এ বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকরা চাষাবাদ করতে পারছেনা । এমনটি জানাগেছে সোহান হোসেন, সুমন হোসেন, জালাল উদ্দিন, মুকুল হোসেন, আহাদ আলী, হাসান আলী, ইদ্রিস আলী, রায়হান হোসেনসহ এলাকার ভূক্তভোগেী কৃষকদের সাথে আলাপ করে। কৃষক মিজানুর রহমান জানান, কাকুড়িয়া বিলে অপরিকল্পীত ভাবে প্রায় শতাধিক ঘের ও ভেড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বিলের পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার সোহরাব হোসেন, মাওলানা আব্দুল কাদের, শামিম হোসেন, কামাল হোসেন জানান, অপরিকল্পীত ভাবে ঘের ও ভেড়ি নির্মাণ করা হয়েছে তার ওপর একমাত্র খালের জমি দখল করায় খালর সংকীর্ন হয়ে পড়ায় পানি বের হতে পারছে না। ফলে বিল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক জানান, কাকুড়িয়া বিলের পানি মূলত এ খাল দিয়ে হরিহর নদীতে আসতো। এ খালটি ইতিমধ্যে সদর ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার খনন করা হয়েছে। কিন্তু উত্তর পাশে কাশিমনগর ইউনিয়নের মধ্যে ৩ কিলোমিটার খালের জমি দখল হয়ে যাওয়ায় ওই বিল থেকে পানি সরতে পারছেনা। ফলে কাকুড়িয়া বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এ দিকে এলাকার ভূক্তভোগীরা কাকুড়িয়া বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন করে চাষাবাদের সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. গাজী এনামুল হক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু, উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারি অধ্যাপক ফজলুল হক, শামীম হোসেন, বিএনপির নেতা আব্দুল মান্নান দফাদার প্রমুখ। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে অনুরোধ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সম্রাট হোসেন জানান, বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।