ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : সুন্দরবন ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালী এলাকায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে কটূক্তি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী দুইজনের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় একটি মামলা করেন। মামলার অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার টাউন নওয়াপাড়া গ্রামের কাটাখালী মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার অভিযুক্ত আসামি সুজন মোড়ল (৩৪) ও হুমায়ুন কবীর ওরফে কবীর ফরাজী (৫৭) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ মামলার বরাত দিয়ে জানান, গত ১৫ আগষ্ট সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী তার স্বামী, রুমমেট, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনের সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণে যান। রোববার (১৬ আগষ্ট) বিকালে তারা মোংলা থেকে মাহেন্দ্রযোগে ফকিরহাটের কাটাখালী মোড়ে পৌঁছান। সন্ধ্যায় খাবার খেয়ে যশোর যাওয়ার জন্য একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করেন তারা। এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থীর কাছে পর্যাপ্ত নগদ টাকা না থাকায় বিকাশ থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য তিনি তার রুমমেটকে সঙ্গে নিয়ে কাটাখালী মোড়ের পুলিশ বক্সের পাশে দিগন্ত পরিবহনের সামনে যান। সেখানে হুমায়ুন কবীর তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন মন্তব্য করেন এবং পোশাক নিয়ে কটূক্তি করেন। প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি হাতে জুতা নিয়ে তাকে ভয় দেখান। এ সময় সুজন মোড়লও তাদের অশালীন মন্তব্য করেন। পরে বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠী ও স্বজনদের জানান। অন্যান্য সহপাঠী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ব্যক্তির কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। তখন অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে হুমায়ুন কবীর ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠী সিনথিয়া রহমানের নাকে ঘুষি মারেন। সিনথিয়ার স্বামী আহম্মেদ জুবায়েরকেও ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় জাবির শিক্ষার্থী ভুক্তভোগী নিশাত তাসমিন টুম্পা বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় হুমায়ুন কবীর ওরফে কবীর ফরাজী ও সুজন মোড়লের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, জাবির শিক্ষার্থীকে কটুক্তি ও হয়রানির অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার দুই অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুইজনকে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।