নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ফের বেনাপোলের তনিমা ফিলিং স্টেশন দখলের চেষ্টা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ এবং ৯ আগস্ট আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন তনিমা ফিলিং স্টেশনটি শেষ করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। দল থেকে বহিষ্কারের পরও আনোয়ার হোসেন ও তার ভাইসহ সহযোগীরা আগের মতোই প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। ফিলিং স্টেশন দখল করতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো মামলা দিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে। এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট আনোয়ার হোসেনসহ চারজনকে বিবাদী করে বেনাপোল পোর্ট থানায় জিডি করেছেন শার্শার যাদবপুর এলাকার বাসিন্দা তনিমা ফিলিং স্টেশনের মালিক ইয়াসমিন আক্তার। বিবাদিরা হলো-শার্শার বসতপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও তার ভাই জামাল হোসেন, কামাল হোসেন এবং বেনাপোল ভবেবেড় গ্রামের মফিজ উদ্দিনেন ছেলে ইব্রাহিম। জিডিতে ইয়াসমিন আক্তার উল্লেখ করেন, বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপুকুর গ্রামে বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের পাশে তার ‘তনিমা ফিলিং স্টেশন’ রয়েছে। ফিলিং স্টেশনের জমি-জায়গা নিয়ে বিবাদীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতেও মামলা চলমান রয়েছে। আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন এর আগেও একাধিকবার ফিলিং স্টেশনের ক্ষতিসাধন করেছেন। সর্বশেষ ৭ আগস্ট ও ৯ আগস্ট তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি ও ফিলিং স্টেশন শেষ করে দেয়া হবে বলে হুমকি দেন। জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিং স্টেশনে সবসময় ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো দাহ্য পদার্থ মজুত থাকে। ফলে সেখানে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন। ইয়াসমিন আক্তার জানিয়েছেন- আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজনের অপতৎপরতা থেমে নেই। গত ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে ফিলিং স্টেশনটি ফের দখল নিতে যায়। স্থানীয় লোকজনের বাধার মুখে আনোয়ার ও তার লোকজন পিছু হঠতে বাধ্য হয়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফিলিং স্টেশন নিয়ে বিরোধ চললেও আইনগতভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে বিভিন্নভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। দখলের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর উল্টো মামলা দিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে তনিমা ফিলিং স্টেশন দখলের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ায় আনোয়ার হোসেনকে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে জেলা বিএনপির বহিষ্কার করেছিল। বিএনপি থেকে বহিষ্কারের প্রায় এক বছর পরও সেই ফিলিং স্টেশনটি ফের দখলের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে আনোয়ার হোসেন ও তার লোকজন।