কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মাদক সেবনের অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ায় ডোপ টেস্টের মুখোমুখি হতে হয়েছিল দুই যুবককে। কিন্তু চিকিৎসকের ডোপ টেস্টে গাঁজা, ইয়াবা ও ঘুমের বড়ি সেবনের প্রমাণ মেলার পর আর রক্ষা হয়নি তাদের। অবশেষে আদালতের নির্দেশে সাজা ভোগ করতে তাদের পাঠানো হয়েছে কারাগারে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানায়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-কালীগঞ্জ শহরের কলেজ পাড়ার আজগর আলীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম রাব্বি (৩০) এবং ঢাকালে পাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩২)। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে শহর থেকে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে তাদের পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে আটককৃতরা নির্দোষ দাবি করে পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। পরিস্থিতি নিরসনে তাদের ডোপ টেস্ট করানোর সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে দুই যুবককে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করানো হলে ফলাফল পজিটিভ আসে। পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, তারা গাঁজা, ইয়াবা ও সংবেদনশীল ঘুমের ওষুধ সেবন করেছেন। পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর মঙ্গলবার বিকেলে তাদের ঝিনাইদহ আদালতে তোলা হয়। মামলার শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সব্যসাচী রায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৬ ধারায় সিরাজুল ইসলাম রাব্বীকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে ৪ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১০ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, আটককৃতদের পরিবারের সাথে বাকবিতণ্ডা তৈরি হলে বিষয়টি স্বচ্ছতার সাথে নিরসনের জন্য ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়। টেস্টে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের শাস্তি ঘোষণা করেন। মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ও স্বচ্ছ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।