উৎপল বিশ্বাস, নেহালপুর : মণিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড রাজকুমার মন্ডলকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার ভয় দেখিয়ে চাকুরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর গুম করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ (শোকজ) ছাড়াই সম্পূর্ণ অন্যায় ভাবে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনার নাইট গার্ডের স্ত্রী মিনতি বেগম বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার অফিসার ইনচার্জ ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি স্বামীর চাকুরির অব্যাহতি ও নিখোঁজের বিষয়টি প্রশাসনকে দ্রুত নিরপক্ষ তদন্ত করে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করেছেন। নিখোঁজ নাইট গার্ড রাজকুমার মন্ডলের স্ত্রী মিনতি মন্ডলের অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্বামী কলেজ প্রতিষ্ঠা থেকে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত রয়েছে। কিন্তু গত দুই মাস আগে কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তাকে তার কক্ষে ডেকে নেন এবং একটি লেখা কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। স্বাক্ষর না করলে তাকে নানা ধরনরে হুমকি ও হত্যার করা ভয় দেখানো হয়। আমার সংসারে আমার স্বামী একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। কোনো অপরাধ ছাড়াই অধ্যক্ষ আমার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর গত ৯ সেপ্টেম্বর হতে আমার স্বামীর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সকল আত্মীয় স্বজনদের কাছে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে আমাকে বলেছিলো আমার আর মনে হয় চাকুরি করা হবে না। কারন বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান আমার উপর বিভিন্ন ভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। আমার স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন , মানসিক হয়রানি ও শারীরিক নির্যাতন করার পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে চাকুরি থেকে অবসরের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমার স্বামী স্বেচ্ছায় বা স্বাধীন ইচ্ছাই চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়নি। অধ্যক্ষ পরিকল্পিতভাবে, ভয়ভীতি, চাপ, শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণ নাশের আশংকার কারনে তাকে অবসরে ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। সেই অবধি দীর্ঘ এক মাস আমার স্বামী রাজকুমার মন্ডল নিখোঁজ রয়েছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পূর্বে আমার স্বামীকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকায় তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমাদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, তার চাকুরিগত কিছু সমস্যার কথা কয়েক মাস আগে আমাকে জানিয়েছিল। তারপর আমি তাকে ২০ হাজার টাকাও দিয়েছি। তবে নিখোঁজের বিষয়টি আমি কিছু জানি না। মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাইদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করছেন এসআই অলোক কুমার বিশ্বাস। আমরা তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।