Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ দালালের ফাঁদ থেকে রোগীদের রক্ষা করবে কে ?

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতারণা ঠেকাতে চালু তথ্যকেন্দ্র জনবল সংকটে বন্ধ

এখন সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর , ২০২৬, ১২:২৬:৩৪ পিএম
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে প্রতারণা ঠেকাতে  চালু তথ্যকেন্দ্র জনবল সংকটে বন্ধ

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ কমানো, হয়রানি বন্ধ ও দালালদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে ঘটা করে চালু করা হয়েছিল তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কোনো রোগী যেন ভুল তথ্যের শিকার না হন। প্রয়োজনীয় বিভাগ খুঁজতে গিয়ে হয়রানিতে না পড়েন কিংবা দালালের খপ্পরে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হন। কিন্তু জনবল সংকটে বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ রয়েছে সেই তথ্যকেন্দ্র। হাসপাতালে প্রতিদিন যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের অনেকের কাছেই হাসপাতালের বিশাল ভবন, বিভিন্ন বিভাগের অবস্থান, চিকিৎসকদের কক্ষ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্থান অপরিচিত। কোথায় বহির্বিভাগ, কোথায় প্যাথলজি, কোথায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কোন চিকিৎসক কোন কক্ষে বসেন তা জানতে গিয়ে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনকে ছোটাছুটি করতে হয়। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ানো তাদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করেই দালালচক্র রোগীদের বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে হাসপাতালসংলগ্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগের নির্দিষ্ট কক্ষের পরিচয় দিয়ে রোগীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হতো। পরে সেখানে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। আবার হাসপাতালের ভেতরে প্যাথলজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি কক্ষ খুঁজে না পেয়ে কিছু রোগী বাইরের প্রতিষ্ঠানে চলে যেতেন। এতে সরকারি হাসপাতালে সেবা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আসা রোগীদের বাড়তি অর্থ ব্যয় ও ভোগান্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতো। এমন পরিস্থিতিতে রোগীদের সঠিক তথ্য দেওয়া এবং দালালদের প্রতারণার সুযোগ কমানোর উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে চালু করা হয় তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র। উদ্যোগটির লক্ষ্য ছিল, রোগীরা যেন সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন। কোনো বিভাগ বা চিকিৎসকের কক্ষ খুঁজে না পেলে তাদের যেন অপরিচিত লোকের ওপর নির্ভর করতে না হয়। কোথায় কী সেবা পাওয়া যাবে, কোন স্থানে পরীক্ষা করাতে হবে কিংবা হাসপাতালের কোন বিভাগে যেতে হবে এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই ছিল কেন্দ্রটির মূল উদ্দেশ্য। চালুর সময় কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একজন কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকের কক্ষ, বিভাগভিত্তিক সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার স্থান, অস্ত্রোপচারের দিন এবং হাসপাতালের অন্যান্য সেবা সম্পর্কে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের তথ্য দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি ওষুধের ফার্মেসিসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনার অবস্থান জানিয়ে রোগীদের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, হাসপাতালের সেবা নিতে এসে একজন রোগীকে যেন তথ্যের অভাবে বারবার ঘুরতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেই উদ্যোগের কার্যক্রম এখন বন্ধ। বেশ কয়েকদিন ধরে তথ্যকেন্দ্রটি অচল থাকলেও রোগীদের তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা চালু রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার সময়ে রোগীরা কীভাবে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমবার হাসপাতালে আসা রোগী, বয়স্ক মানুষ এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এমন একটি তথ্যকেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি। সরকারি হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রোগীদের তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া সেবাব্যবস্থাপনারই একটি অংশ। চিকিৎসক, ওষুধ কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও রোগী যদি সঠিক বিভাগে পৌঁছাতে না পারেন, তবে তার দুর্ভোগ বাড়ে। ভুল তথ্যের কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেলে সময় ও অর্থের অপচয় হতে পারে। তাই তথ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি শুধু একটি কক্ষ বন্ধ থাকার ঘটনা নয়; এর সঙ্গে রোগীদের সঠিক সেবা পাওয়ার সুযোগও জড়িত। জনবল সংকট হাসপাতাল পরিচালনার একটি বাস্তব সমস্যা হলেও এর কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় তথ্যসেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। স্থায়ীভাবে কর্মচারী নিয়োগ সম্ভব না হলে বিদ্যমান জনবলের মধ্য থেকে কাউকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া, পালাক্রমে কর্মী নিয়োজিত করা কিংবা হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা যেতে পারে। টিকিট কাউন্টারের সামনে তথ্য প্রদানের ব্যবস্থা সচল রাখলেও রোগীদের প্রাথমিক দিকনির্দেশনা পাওয়া সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালদের মাধ্যমে রোগীদের বিভ্রান্ত করা বা বাইরের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ থাকলে সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রোগীদের কোথায় কোন সেবা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সহজবোধ্য নির্দেশনা থাকলে অপরিচিত লোকের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে। তবে তথ্যকেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে দালালদের তৎপরতা বেড়েছে এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি প্রতিরোধমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রায় আট বছর আগে রোগীদের দুর্ভোগ ও প্রতারণা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে চালু হওয়া তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্রের কার্যক্রম এখন জনবল সংকটে থমকে আছে।এই সেবা কবে নাগাদ আবার চালু হবে, তা নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি। ফলে কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ এবং রোগীদের তথ্যসেবা নিশ্চিত করার বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত জানান, জনবল সংকটের কারণে তথ্যকেন্দ্রে স্থায়ীভাবে কাউকে দায়িত্ব প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেবা কার্যক্রমটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে কেন্দ্রটি ফের চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)